সূরা আন-নাসের পরিচিতি-
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সূরার নাম | সূরা আন-নাস (الناس) |
| সূরা নম্বর | ১১৪ |
| আয়াত সংখ্যা | ৬টি |
| রুকু সংখ্যা | ১টি |
| কততম পারা | ৩০তম পারা (আম্মা পারা) |
| অবতীর্ণ হওয়ার স্থান | এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেক আলেমের মতে এটি মাক্কি (মক্কায় অবতীর্ণ), আবার অনেক আলেমের মতে এটি মাদানি (মদিনায় অবতীর্ণ)। |
সূরা আন-নাস-
সূরা আন-নাস পবিত্র কুরআনের সর্বশেষ সূরা। এটি মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা প্রদানকারী শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দেয়। এই সূরার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সকল ভয়, অশুভ শক্তি ও শয়তানের ধোঁকা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র আশ্রয় আল্লাহ।
সূরা আন-নাস নামকরণের কারণ-
“আন-নাস” শব্দের অর্থ “মানুষ”। এই সূরায় “নাস” শব্দটি বারবার ব্যবহৃত হয়েছে। সূরার শুরুতেই আল্লাহ তাআলাকে মানুষের প্রতিপালক, মানুষের অধিপতি এবং মানুষের একমাত্র উপাস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কারণেই সূরাটির নাম রাখা হয়েছে সূরা আন-নাস।
সূরা আন-নাস অবতীর্ণ হওয়ার কারণ-
তাফসিরগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, এক সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর জাদু করা হয়েছিল। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে এবং তাঁর উম্মতকে শয়তান, জাদু, হিংসা ও সকল অশুভ শক্তির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়ার জন্য সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস নাজিল করেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে সূরার অবতীর্ণ হওয়ার সম্পর্ক নিয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
সূরা আন-নাসে কোন কোন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে-
আল্লাহই সকল মানুষের একমাত্র প্রতিপালক, অধিপতি ও উপাস্য। শয়তান মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে এবং পাপের দিকে আহ্বান জানায়। শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা অপরিহার্য। মানুষের পাশাপাশি জিনদের মধ্য থেকেও শয়তান থাকতে পারে। আল্লাহর স্মরণ মানুষকে শয়তানের ধোঁকা ও কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে।
সূরা আন-নাস থেকে প্রাপ্ত মূল শিক্ষা-
একমাত্র আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে হবে। সকল বিপদ, শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অশুভ শক্তি থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দোয়া করা উচিত। মানুষের কুপরামর্শ ও খারাপ সঙ্গ থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহর স্মরণে থাকলে শয়তানের প্রভাব দুর্বল হয়ে যায়। জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা একজন মুমিনের কর্তব্য।
উপসংহার–
সূরা আন-নাস আকারে ছোট হলেও এর শিক্ষা অত্যন্ত গভীর। এই সূরায় মানুষকে শেখানো হয়েছে যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশ্রয় চাইতে হবে। আল্লাহই মানুষের প্রকৃত প্রতিপালক, অধিপতি ও একমাত্র উপাস্য। তাই একজন মুসলিমের উচিত নিয়মিত সূরা আন-নাস তিলাওয়াত করা এবং এর শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন-
প্রশ্ন: সূরা আন-নাস কত নম্বর সূরা?
উত্তর: সূরা আন-নাস পবিত্র কুরআনের ১১৪তম ও সর্বশেষ সূরা।
প্রশ্ন: সূরা আন-নাসে কতটি আয়াত রয়েছে?
উত্তর: সূরা আন-নাসে ৬টি আয়াত রয়েছে এবং এটি ৩০তম পারায় অবস্থিত।
প্রশ্ন: সূরা আন-নাস মাক্কি নাকি মাদানি?
উত্তর: এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেক আলেমের মতে এটি মাক্কি, আবার অনেক আলেমের মতে এটি মাদানি।
প্রশ্ন: সূরা আন-নাসের মূল বিষয় কী?
উত্তর: এই সূরার মূল বিষয় হলো শয়তানের কুমন্ত্রণা ও সকল অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একমাত্র আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা।
প্রশ্ন: সূরা আন-নাস থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?
উত্তর: আমরা শিখি যে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে এবং সর্বদা আল্লাহর স্মরণে থাকতে হবে।

