গাছ-পালা কর্তন-
গাছ-পালা কর্তন বলতে বোঝায় সঠিক পদ্ধতিতে গাছ বা ঝোপঝাড় কেটে অপসারণ করা। ঘরবাড়ি নির্মাণ, জমি প্রস্তুত, কৃষিকাজ, কাঠ সংগ্রহ বা রোগাক্রান্ত গাছ সরানোর মতো অনেক কারণেই গাছ-পালা কর্তন করা হয়ে থাকে। তবে কর্তন করার সময় পরিবেশের সুরক্ষা, সরকারি নিয়ম এবং নিরাপত্তা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
গাছ শুধু ছায়া দেয় বা কাঠ সরবরাহ করে না, এটি বাতাস বিশুদ্ধ করে, মাটির ক্ষয় প্রতিরোধ করে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং পরিবেশকে বাসযোগ্য রাখে। তাই প্রয়োজন ছাড়া গাছ কাটা উচিত নয়। আর কর্তন করার পর নতুন গাছ রোপণ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার অপরিহার্য অংশ।
গাছ-পালা কর্তনের প্রয়োজন-
যে পরিস্থিতিতে গাছ কাটা প্রয়োজন হতে পারে—
- বাড়ি, রাস্তা বা স্থাপনা নির্মাণ
- কৃষি জমি পরিষ্কার করা
- রোগাক্রান্ত, পোড়া বা শুকিয়ে যাওয়া গাছ অপসারণ
- বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকি কমানো
- বড় হয়ে যাওয়া শাখা-প্রশাখার কারণে বিপদ সৃষ্টি হলে ছাঁটাই
তবে প্রয়োজন থাকলেও গাছ কাটার আগে ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত।
গাছ-পালা কর্তনের আইন ও নিয়ম-
বাংলাদেশে বড় গাছ কর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। সরকারি বন, সংরক্ষিত এলাকা বা সড়কের পাশের গাছ অনুমতি ছাড়া কাটলে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
নিজের জমির গাছ হলেও বড় গাছ কাটার আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া উত্তম।
গাছ-পালা কর্তনের নিরাপদ পদ্ধতি-
গাছ কাটা একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তাই—
- প্রশিক্ষিত কর্মী দিয়ে কাজ করানো
- চেইনসো বা উপযুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার
- নিরাপত্তা হেলমেট, গ্লাভস, বুট পরা
- গাছের পড়ার দিক নির্ধারণ
- আশপাশে মানুষজন দূরে রাখা
- আবহাওয়া বিবেচনা করা (ঝড়-বৃষ্টি এ avoided)
আধুনিক টেকনিক ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে।
গাছ কর্তনের পর করণীয়-
গাছ কাটার পর স্থানটি পরিষ্কার করা, অবশিষ্ট শেকড় অপসারণ, কাঠ সংরক্ষণ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – নতুন গাছ লাগানো। একটি গাছের পরিবর্তে অন্তত ২–৩টি চারা লাগানো পরিবেশের জন্য ভালো।
পরিবেশগত প্রভাব-
যথেচ্ছ গাছ-পালা কর্তন করলে—
- বায়ু দূষণ বৃদ্ধি
- বন্যার ঝুঁকি বাড়ে
- ভূমিক্ষয় হয়
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
- প্রাণীর বাসস্থান নষ্ট হয়
এই কারণেই গাছ কাটার ক্ষেত্রে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

