Flash Story
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন: ভোট ঘিরে জামায়াত–বিএনপির সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিশ্লেষণ
কাবুলে বিস্ফারণের দায় স্বীকার
কাবুলে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার: ইসলামিক স্টেট আইএস কি সত্যিই দায়ী? 
আফগানিিস্তানের কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
আফগানিস্তানের কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: শাহর-ই-নাও এলাকায় রক্তাক্ত সোমবার
ইন্দোনেশিয়ার ১১ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ বিমানের সন্ধান
ইন্দোনেশিয়ার ১১ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ বিমানের সন্ধান: রহস্য, অনুসন্ধান ও উদ্বেগজনক বাস্তবতা
উত্তরার অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ অবস্থা
উত্তরার অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ অবস্থা: একটি সকাল, কয়েকটি নিভে যাওয়া জীবন
ঋণের জামিদার হওয়াতেই প্রাণ গেল মা মেয়ের
ঋণের জামিদার হওয়াতেই প্রাণ গেল মা মেয়ের- ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ঋণের জামিদার হওয়াতে প্রাণ গেল গৃহ শিক্ষিকার হাতে
প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট
 প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট- নাভিশ্বাস ঢাকার জনজীবন
স্বাধীন দেশে স/ন্ত্রা/সী হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রীকে অপহরণ
Mustafizur rahman
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত—বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভ ও নিন্দা
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন
Share this article

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-

দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পর এবারের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয় অবস্থান, জোট রাজনীতি এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এবারের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত আলোচিত। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নির্বাচন সংঘর্ষ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার হয়। মিছিল, পথসভা, গণসংযোগ এবং প্রচারকেন্দ্রিক কর্মসূচি পালনের সময় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ভোটের প্রচার প্রচারণার পর অবশেষে কাঙি্খত দিনে নির্বাচন শুরু হয়েছে। শুরুর দিকে কয়েকটি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পাদন হলেও বিভিন্ন স্থানে এরই ধারাবাহিকতায় দেশের কয়েকটি জেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও সহিংসতার খবর-

মিরপুর, ঢাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সংঘর্ষ:

রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও সংঘর্ষজনিত আহতের ঘটনা ঘটে। সংবাদ অনুযায়ী এতে অন্তত ১০-১৫ জন আহত হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা সংঘর্ষ:

কুষ্টিয়ার দাউলতপুরে নির্বাচন পরিচালনার আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হওয়া সংবাদে নিশ্চিত করা হয়েছে। উভয় পক্ষ একে অপরকে হামলার দায় স্বীকার বা অভিযোগ করেছে।

সিলেট-৩: ভোট কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে মারামারি ও অভিযোগ:

সিলেট-৩ অঞ্চলে ভোট কেন্দ্র ঘিরে ব্যালট কাগজ জালিয়াতির অভিযোগের পর Jamaat ও BNP সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও আর্মি মোতায়েন করা হয়। উভয় পক্ষ একে অন্যকে উসকানি ও পরিকল্পনা অভিযুক্ত করেছে।

ভোলা: নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা-

ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-সহ জোটশক্তির সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয় বলে স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদ জানায়। ঘটনা উপজেলার সাকুচিয়া উত্তর ইউনিয়নের ওয়ার্ড নম্বর ৩ এলাকায় সকালে সংঘটিত হয়, যেখানে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিল। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দ্রুত সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে।

মুন্সিগঞ্জ: ভোট কেন্দ্রের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ, ভোটারদের আতঙ্ক-

মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলা, মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাঁঘাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের সকালেই পোলিং সেন্টারের নিকটে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এগুলো সাধারণত ছোট ককটেল বা গ্রেনেড-ধরনের বিস্ফোরণ ছিল এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘটনায় কোনো বড় ধরনের হতাহতের তথ্য না থাকলেও কিছু সময়ের জন্য মানুষের মধ্যে ভয় দেখা দেয়। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে বলে কেন্দ্রের দায়িত্বশীলরা নিশ্চিত করেন।

লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনী উত্তেজনা:

লক্ষ্মীপুরেও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একটি ইউনিয়নে প্রচারণাকালে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করেছে। তবে উভয় দলই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে বলে যে, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষ উসকে দিয়েছে।

শেরপুরে প্রচারসভা কেন্দ্রিক বিরোধ:

শেরপুরে একটি নির্বাচনী প্রচারসভায় বসার স্থান ও মঞ্চ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রথমে মৌখিক তর্ক, পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

এ ঘটনাতেও উভয় দল একে অপরকে দায়ী করে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

২০২৬ সালের নির্বাচন সংঘর্ষের মূল কারণ-

২০২৬ সালের নির্বাচন সংঘর্ষের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করা যায়:

১. তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় প্রতিটি আসনেই জয়লাভের চাপ ছিল।

২. মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

৩. ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ ও এজেন্ট বসানো নিয়ে বিরোধ।

৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়ান।

৫. আইন শৃঙ্খলা বাহিনীদের  জোরদার নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাফলতি।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগের রাজনীতি-

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। প্রায় প্রতিটি সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় দলই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে।

বিএনপি অভিযোগ করে, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা হয়েছে এবং ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের প্রচারণা ও ভোট কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপি সমর্থকরাই উসকানি দিয়েছে।

এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে প্রশাসনের তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কে বা কারা ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও ভোট জালিয়াতি করেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রচার করা হোক যেন দেশের জনগণ প্রকৃত ত্রাসসৃষ্টিকারীদের চিহ্ণিত করতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা-

নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন উপলক্ষে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী মাঠে মোতায়েন ছিল। তবে এত কিছু উপেক্ষা করেও ‍বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ হয়।  সংঘর্ষের পরপরই বেশ কয়েকটি এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করা হয়।  কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বড় ধরনের সহিংসতা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

ভোটারদের ওপর প্রভাব-

২০২৬ সালের নির্বাচন সংঘর্ষ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। অনেক ভোটার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে অধিকাংশ এলাকাতেই ভোটগ্রহণ শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। দেড় দশক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পর এইবারের ভোট দিতে দেশের জনগণ উৎসাহিত ছিল।

আজকের নির্বাচনে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা-

আজকের নির্বাচনে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকাগুলো সারাদিন ভোটগ্রহণের আপডেট, ভোটার উপস্থিতি, বিভিন্ন স্থানের সংঘর্ষ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক খবর প্রকাশ করেছে। এর ফলে জনগণ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জানতে পেরেছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নির্বাচন ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সে বিভিন্ন কেন্দ্রের ছবি, ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য ছড়ালেও কিছু জায়গায় যাচাইবিহীন পোস্ট ও গুজবও ছড়িয়েছে, যা সাময়িক উত্তেজনা তৈরি করেছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, গণমাধ্যম তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন দিয়ে নির্বাচনকে স্বচ্ছ রাখতে সহায়তা করেছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামত প্রকাশের বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে—তবে দায়িত্বশীল ব্যবহার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার-

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যদিও অনেক স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে, তবুও কিছু এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নির্বাচনকে বিতর্কিত করেছে।

প্রশ্নউত্তর-

প্রশ্ন: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনে কোথায় কোথায় সংঘর্ষ হয়েছে?
উত্তর: কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, ভোলা ও শেরপুরসহ কয়েকটি স্থানে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রশ্ন: ২০২৬ সালের নির্বাচন সংঘর্ষের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রচারণা কেন্দ্রিক বিরোধ, ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ এবং স্থানীয় উত্তেজনা প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

প্রশ্ন: নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
উত্তর: অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন, টহল জোরদার এবং অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রশ্ন: সংঘর্ষ কি ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়?
উত্তর: অধিকাংশ এলাকায় ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকে, তবে কিছু কেন্দ্রে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয়।


Share this article

Leave a Reply

Back To Top