Flash Story
কাবুলে বিস্ফারণের দায় স্বীকার
কাবুলে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার: ইসলামিক স্টেট আইএস কি সত্যিই দায়ী? 
আফগানিিস্তানের কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
আফগানিস্তানের কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: শাহর-ই-নাও এলাকায় রক্তাক্ত সোমবার
ইন্দোনেশিয়ার ১১ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ বিমানের সন্ধান
ইন্দোনেশিয়ার ১১ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ বিমানের সন্ধান: রহস্য, অনুসন্ধান ও উদ্বেগজনক বাস্তবতা
উত্তরার অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ অবস্থা
উত্তরার অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ অবস্থা: একটি সকাল, কয়েকটি নিভে যাওয়া জীবন
ঋণের জামিদার হওয়াতেই প্রাণ গেল মা মেয়ের
ঋণের জামিদার হওয়াতেই প্রাণ গেল মা মেয়ের- ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ঋণের জামিদার হওয়াতে প্রাণ গেল গৃহ শিক্ষিকার হাতে
প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট
 প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট- নাভিশ্বাস ঢাকার জনজীবন
স্বাধীন দেশে স/ন্ত্রা/সী হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রীকে অপহরণ
Mustafizur rahman
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত—বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভ ও নিন্দা
2026-01-04_013030
নতুন বাংলাদেশে আগের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণ
ঋণের জামিদার হওয়াতেই প্রাণ গেল মা মেয়ের
Share this article

ঋণের জামিদার হওয়াতেই প্রাণ গেল মা মেয়ের: ভূমিকা-

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে নিখোঁজের ২১ দিন পর মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার হওয়া সংক্রান্ত নির্মম ঋণের জামিদার হওয়াতেই প্রাণ গেল মা মেয়ের ঘটনাটি দেশের সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিকভাবে গভীর প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং পুরো সমাজের ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আজ আমরা এই ভয়াবহ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, ঘটনার কারণ, তদন্তশেষকৃত তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব।

ঘটনার প্রেক্ষাপট-

ঢাকার কেরাণীগঞ্জের মুক্তিরবাগ এলাকায় ২৫ ডিসেম্বর থেকে ৩২ বছর বয়সী রোকেয়া রহমান ও তার ১৪ বছর বয়সী কন্যা জোবাইদা ফাতেমা (ফাতেমা) নিখোঁজ ছিল। প্রায় ২১ দিন পর ১৫ জানুয়ারি তাদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জাতীয় জরুরি সেবায় ৯৯৯ কল পাওয়ার পর একটি পাঁচ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে রোকেয়া ও ফাতেমা’র মরদেহ উদ্ধার করে।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্র গৃহ শিক্ষিকা (টিউটর) মিম আক্তারের বাসায় ঘটেছে, যিনি ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা ছিলেন এবং একই ভবনে তাঁরা বসবাস করতেন। খবরগুলোর তদন্তে জানা গেছে যে গৃহ শিক্ষিকা মিম একটি এনজিও থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছিলেন এবং ঋণের জামিন হিসেবে রোকেয়া দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ঋণের কিস্তি ও অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিও ও ঋণদাতা পক্ষের চাপ বয়ে যায়। এর ফলে রোকেয়া ও মিমের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঋণ কিস্তি পরিশোধে অক্ষমতা ও বিবাদের কারণে মিম ও তার বোন ফাতেমাকে গলা টিপে ও রশি দিয়ে হত্যা করে করেন। জানা যায় প্রথমে গৃহশিক্ষিকা ফাতেমাকে হত্যা করে এরপর তারা রোকেয়া বেগমকে ফোন করে তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে গেছে বলে তাদের বাসায় আসতে বলে। রোকেয়া বেগম বাসায় আসলে মিম ও তার ছোট বোন মিলে গলা টিপে ও রশির মাধ্যমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এবং পরে মরদেহগুলো ফ্ল্যাটের ভেতরে লুকিয়ে রাখে।  পরে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত কেউ এই হত্যাকাণ্ডের সত্যিকার তথ্য জানতে পারেনি। তারা মৃতদেহ গুলো তাদের ফ্লাটের বাথরুমের ফলছাদ থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। রোকেয়া বেগমের স্বামী কেরাণীগঞ্জের মডেল থানায় তার স্ত্রী ও মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে জানালেও পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। তাদের এমর গাফলতির জন্য হত্যার প্রায় ২১ দিন পর তাদের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।

তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ-

ঘটনাস্থল থেকে মিম আক্তার ও তার বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঋণ কিস্তি পরিশোধ ব্যর্থ হওয়ায় চাপ তৈরি হয় এবং তর্ক-বিবাদ সংঘটিত হয়, যা পরে হিংস্র রূপ নেয়। এই বিষয়টি পুলিশের তদন্তে স্বীকারোক্তি পেয়েছে এবং মিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছে, যার ভিত্তিতে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে শুক্রবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আর অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫) হওয়ায় মিমের বোনের জবানবন্দি নেয়নি আদালত। তাকে পাঠানো হয়েছে গাজীপুরে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে। প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই আলমগীর হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।  তার বোনকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, যেহেতু সে নাবালক। এছাড়া মৃতদেহের পোস্টমর্টেম করা হয়েছে এবং তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া-

এই নির্মম ঘটনার পর সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গৃহশিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত এই ঘটনা সকলের মনকে আঘাত করেছে এবং মানুষের নিরাপত্তা অনুভূতি ক্ষুণ্ন করেছে। কেরাণীগঞ্জসহ সারা দেশের মানুষ এই হত্যাকাণ্ডর সুষ্ঠ বিচার আশা করছে যেন ভবিষ্যৎতে এমন ভয়ানক হত্যাকাণ্ড না হয় এবং অকালে কারো প্রাণ না ঝরে।

উপসংহার-

ঋণের জামিদার হওয়াতেই প্রাণ গেল মা মেয়ের এই মর্মান্তিক ঘটনা সমাজের জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা। সামান্য ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ কীভাবে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিতে পারে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। ঋণের জামিনদার হওয়ার আগে সচেতনতা, আইনি জ্ঞান ও সতর্কতা জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদার না হলে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।

প্রশ্নত্তোর-

১. এই হত্যাকাণ্ড কি সত্যিই ঋণের কারণে?

হ্যাঁ, পুলিশের তথ্য মতে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ ছিল ঋণ কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতা ও তার পরিণতিতে গৃহশিক্ষিকা ও নিহতের মধ্যে বিবাদ, যা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়।

২. কোথা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়?

রোকেয়া রহমান ও ফাতেমার লাশ উদ্ধার করা হয় কেরাণীগঞ্জ মুক্তিরবাগ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে, যেখানে গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার থাকতেন।

৩. কি পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে?

হ্যাঁ, পুলিশ মিম আক্তার ও তার নাবালিকা বোনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা হত্যাকাণ্ডের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রাখা হয়েছে।

৪. আদালতে কি স্থির সিদ্ধান্ত হয়েছে?

আদালত মিম আক্তারকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে এবং তার বোনকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত ও মামলা প্রক্রিয়া এখনো চলছে।

৫. এই ঘটনার পেছনের মূল কারণ কি ঋণ ছিল?

হ্যাঁ, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে মূল কারণ ছিল ঋণ কিস্তি পরিশোধজনিত চাপ ও বিবাদ, যা মারাত্মকভাবে মাছিয়াররূপ নেয়ার পরিণতি হয়েছে।


Share this article

Leave a Reply

Back To Top