Flash Story
প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট
 প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট- নাভিশ্বাস ঢাকার জনজীবন
স্বাধীন দেশে স/ন্ত্রা/সী হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রীকে অপহরণ
Mustafizur rahman
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত—বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভ ও নিন্দা
2026-01-04_013030
নতুন বাংলাদেশে আগের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণ
BNP-Chairperson-Khaleda-Zia
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রা: দেশ শোকসাগরে
বলিষ্ঠ কণ্ঠধারী ওসমান হাদি আর নেই
বলিষ্ঠ কণ্ঠধারী ওসমান হাদি আর নেই: জুলাই যোদ্ধা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র—এক কণ্ঠযোদ্ধার বিদায়
সিডনীিতে বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে ইহুদীদের উপর হামলা
সিডনির বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে ইহুদিদের উপর হামলা: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ – বিস্তারিত ঘটনা ও বিশ্লেষণ
কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন
কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন: ভোরের অগ্নিকাণ্ড, ১১ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে
ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা
ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা: নেপথ্যে কী? এই হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কী ছিল মূল উদ্দেশ্য?
solakiya
Share this article

সোলাকিয়া ঈদগাহসোলাকিয়া ঈদগাহের ইতিহাস-

সোলাকিয়া ঈদগাহ বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত এক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ববহ স্থান। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ঈদের জামাতের স্থান হিসেবে পরিচিত। এই ঈদগাহ মাঠে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় লক্ষ লক্ষ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে সমবেত হন।

এই মাঠের নাম “সোলাকিয়া” এসেছে ফারসি শব্দ “সওয়ালাখ” থেকে, যার অর্থ ১ লাখ ২৫ হাজার। কথিত আছে, ১৮২৮ সালে এখানে প্রথম ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেছিল প্রায় দেড় লাখ মুসল্লি, সেখান থেকেই মাঠটির নামকরণ হয় “সোলাকিয়া”।

সোলাকিয়া ঈদগাহের ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশ-

সোলাকিয়া ঈদগাহ কিশোরগঞ্জ শহরের কাছেই নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। ঈদের সময় মাঠটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয় যাতে লক্ষাধিক মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। সাধারণত, ঈদের আগে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলে পুরো এলাকার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে।

এই ঈদগাহ মাঠটির আয়তন প্রায় ৭ একর। তবে ঈদের সময় পার্শ্ববর্তী খোলা এলাকা যোগ করে এটি প্রায় ২২ একর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। বিশাল খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ আদায় এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয় মুসল্লিদের।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও প্রারম্ভিক আয়োজন-

ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, ১৯২৮ সালে প্রথমবারের মতো এই মাঠে বৃহৎ ঈদের জামাত আয়োজন করা হয়। স্থানীয় জমিদার দেওয়ান মান্নান দাদ খান এই উদ্যোগ নেন। প্রথম জামাতে অংশগ্রহণ করেছিল প্রায় দেড় লাখ মুসল্লি। সেখান থেকেই শুরু সোলাকিয়ার মাহাত্ম্য।

ঐতিহাসিকভাবে, এই ঈদগাহ শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের স্থান নয়, বরং এটি ইসলামী ঐক্য, শান্তি, ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঈদের জামাতের আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা-

সোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদের জামাত আয়োজন এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রতিবছর কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই আয়োজন করে। মাঠ প্রস্তুত করা, মাইকের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ, শৌচাগার, ও স্বাস্থসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

নিরাপত্তার দিক থেকে ড্রোন ক্যামেরা, সিসিটিভি, আর্মড পুলিশ, ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট সবসময় মোতায়েন থাকে। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীও সহযোগিতা করে।

মুসল্লিদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি-

যারা সোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়তে আসেন, তাদের অনেকেই বলেন এটি তাদের জীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। একসাথে লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে কিবলার দিকে মুখ করে ঈদের নামাজ আদায় করার যে অনুভূতি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অনেকেই বলেন, এই মাঠে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন স্বর্গের একটি অংশে আছি।

মুসল্লিদের অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এসে এখানে ঈদের জামাতে অংশ নেন। তাদের জন্য রয়েছে হোটেল, মসজিদ, ও বিশ্রামাগার। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই সময় অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকেন।

সোলাকিয়ার গুরুত্ব ইসলামিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিতে-

সোলাকিয়া ঈদগাহ শুধু একটি নামাজের মাঠ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ইসলামিক সংস্কৃতির একটি প্রতীক। ইসলামী ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে সোলাকিয়া প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনায় অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

এটি একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলাও বটে। ঈদের জামাতের পাশাপাশি এখানে নানা ধর্মীয় আলোচনা, খুতবা ও দোয়া মাহফিলও অনুষ্ঠিত হয়। অনেক সময় সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামারা খুতবা প্রদান করেন।

স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রভাব-

প্রতিবছর ঈদের সময় সোলাকিয়া ঈদগাহকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক গতি আসে। অস্থায়ী দোকান, খাবার স্টল, ইসলামিক পণ্যের দোকান, বই বিক্রেতারা এই সময় ভালো বিক্রির সুযোগ পান। এমনকি স্থানীয় পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বর্তমান সময়ের সোলাকিয়া ঈদগাহ-

বর্তমানে সোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদের জামাত বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরের জামাতে প্রায় ৬ লক্ষ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা ছিল এক নতুন রেকর্ড।

সরকারের পক্ষ থেকেও সোলাকিয়া ঈদগাহকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখানে পর্যটন সুবিধা, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ও হজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন-

সোলাকিয়া ঈদগাহকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে থাকবে—

  • আধুনিক বিশ্রামাগার
  • ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার
  • লাইব্রেরি ও আর্কাইভ
  • পর্যটক তথ্য কেন্দ্র
  • ইসলামিক যাদুঘর

এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রজন্ম সোলাকিয়ার ইতিহাস ও গুরুত্ব জানতে পারবে ও ধর্মীয় চেতনার বিকাশ ঘটবে।

উপসংহার-

সোলাকিয়া ঈদগাহ শুধু একটি ঈদের নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। প্রতিবছর এখানে লাখ লাখ মানুষ একত্রিত হয়ে যে ঈদের নামাজ আদায় করেন, তা ইসলামের ঐক্য, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের অসাধারণ নিদর্শন। ভবিষ্যতে এই ঈদগাহকে আরও আধুনিকভাবে গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি-

সোলাকিয়া ঈদগাহ কোথায় অবস্থিত?

সোলাকিয়া ঈদগাহ কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের কাছেই, নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত।

সোলাকিয়া ঈদগাহে প্রথম ঈদের জামাত কবে অনুষ্ঠিত হয়?

প্রথম বৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ১৮২৮ সালে, তখন প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মুসল্লি অংশ নেয়।

সোলাকিয়া ঈদগাহে কতজন মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন?

সাম্প্রতিক বছরে প্রায় ৬ লক্ষ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছেন। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত।

সোলাকিয়া ঈদগাহে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে?

ড্রোন ক্যামেরা, সিসিটিভি, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী সবসময় মোতায়েন থাকে।

সোলাকিয়া ঈদগাহে বিদেশি মুসল্লিদের অংশগ্রহণ হয় কি?

হ্যাঁ, অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ও কিছু বিদেশি মুসলমান এখানে ঈদের নামাজে অংশ নেন।

কীভাবে সোলাকিয়া ঈদগাহে যাওয়া যায়?

ঢাকা থেকে ট্রেন, বাস বা প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাতে হয়। এরপর স্থানীয় যানবাহনে সোলাকিয়া মাঠে যাওয়া যায়।

সোলাকিয়া ঈদগাহে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা আছে কি?

হ্যাঁ, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।


Share this article

Leave a Reply

Back To Top