Flash Story
কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (২৫ নভেম্বর ২০২৫): টানা ১৬ ঘণ্টার যুদ্ধ, হাজারো মানুষের স্বপ্ন পুড়ে ছাই
ঘন ঘন ভূমিকম্প কি বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশকে??
ঘন ঘন ভূমিকম্প কি বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশকে?— ভূমিকম্প ঝুঁকি, কারণ, প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ বিশ্লেষণ
গাছ পালা কর্তন
গাছ-পালা কর্তন: প্রয়োজন, নিয়ম, পদ্ধতি ও পরিবেশগত প্রভাব
কলকাতায় আওয়ামী লীগ নেতাদের হতাশা
ট্রাম্প–শি বৈঠক: নতুন শক্তি ভারসাম্যে বিশ্বরাজনীতির পালাবদল
সুদানে আরএসএফ বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থেকে পালানোর বর্ণনা দিলেন এক সেনা
ঝোহারন মামদানি সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা
গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, যুদ্ধ ফের শুরু হওয়ার আশঙ্কা
মিরপুরে অগ্নিকাণ্ড
মিরপুরে অগ্নিকাণ্ড: ক্যামিকেল গোডাউন ও পোশাক কারখানায় আগুন। বাতাসে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস, বাসিন্দাদের মাস্ক পরার পরামর্শ
zoo
Share this article

জাহানারা বনবিলাসজাহানারা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক পরিচিতি-

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা জেলায় অবস্থিত জাহানারা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক একটি জনপ্রিয় পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র, যা চিড়িয়াখানার সাথে শিশুদের জন্য উপযোগী নানা ধরনের রাইড ও খেলার ব্যবস্থা নিয়ে গঠিত। এখানে ছোট-বড় সবার জন্যই রয়েছে আনন্দ ও শেখার অপার সুযোগ।

এই পার্কটি শুধু বিনোদনের জন্য নয়, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিরও একটি বড় মাধ্যম। স্কুল শিক্ষা সফর থেকে শুরু করে পরিবার-ভিত্তিক ভ্রমণ, সবার জন্যই এটি একটি উপযুক্ত গন্তব্য।

ইতিহাস ও পটভূমি-

জাহানারা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল জনসাধারণ, বিশেষত শিশুদের জন্য প্রাণী জগৎ সম্পর্কে জানার ও উপভোগ করার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে। ‘বনবিলাস’ শব্দটি মূলত বন বা প্রাকৃতিক পরিবেশে আনন্দ করার ধারণাকে তুলে ধরে, আর ‘শিশু পার্ক’ ইঙ্গিত করে শিশুদের জন্য নির্মিত আনন্দময় পরিবেশ।

পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটির পরিসর বৃদ্ধি পায় এবং বর্তমানে এটি খুলনার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

অবস্থান ও যাতায়াত-

এই পার্কটি অবস্থিত খুলনা শহরে, যা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর। পার্কটিতে যাতায়াত সহজ, যেহেতু খুলনা শহরের কেন্দ্র থেকে সহজেই রিকশা, অটো বা ট্যাক্সিতে গিয়ে পৌঁছানো যায়।

যারা দূর জেলা থেকে আসেন, তাদের জন্য খুলনায় বাস, ট্রেন ও নৌপথে যাতায়াতের সুব্যবস্থা রয়েছে।

পার্কের প্রধান আকর্ষণসমূহ-

জাহানারা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক-এ রয়েছে নানা ধরনের আকর্ষণ যা প্রাণিপ্রেমী ও শিশু উভয়ের জন্যই উপযোগী। এখানে কিছু উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ তুলে ধরা হলো:

  • প্রাণী প্রদর্শনী: এখানে দেখা যায় হরিণ, বানর, ময়ূর, কুমির, কচ্ছপ ও বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি পাখি ও সরীসৃপ। প্রাণীগুলো পরিচ্ছন্ন খাঁচায় রাখা হয় এবং পর্যটকরা নিরাপদ দূরত্ব থেকে দেখতে পারেন।
  • শিশুদের বিনোদন এলাকা: দোলনা, স্লাইড, ঘূর্ণায়মান চাকা (মেরিগো রাউন্ড), ছোট ট্রেন ইত্যাদি নানা রাইডস আছে, যা শিশুদের আনন্দে মাতিয়ে রাখে।
  • নৌকা ভ্রমণ ও কৃত্রিম লেক: পার্কের মাঝখানে রয়েছে একটি কৃত্রিম লেক, যেখানে প্যাডেল বোট ও ছোট নৌকায় চড়া যায়। এটি শিশু ও বড়দের জন্যই আকর্ষণীয়।
  • পিকনিক ও সবুজ স্থান: পার্কে রয়েছে ছায়াঘেরা বসার স্থান, যেখানে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিক করা যায়।
  • শিক্ষামূলক বোর্ড: প্রাণীদের জীবনযাপন, প্রজাতি, সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্যবোর্ড রয়েছে, যা শিশুদের শেখার জন্য উপযোগী।

শিক্ষা ও সচেতনতার দিক-

এই পার্কটি শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং প্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত শিক্ষাসফরের আয়োজন করে এখানে, যাতে শিশু-কিশোররা হাতে-কলমে প্রাণীজগত ও পরিবেশ বিষয়ে ধারণা নিতে পারে।

প্রবেশ মূল্য ও ফি-

জাহানারা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক-এর প্রবেশমূল্য সাধারণ মানুষের জন্যও খুবই সহনীয়:

  • প্রাপ্তবয়স্ক: ৩০-৫০ টাকা
  • শিশু: ২০-৩০ টাকা
  • নৌকা ভ্রমণ: ৫০ টাকা (প্রতি রাইড)
  • রাইডস: ১০-২০ টাকা (প্রতি রাইড)

স্কুল গ্রুপ বা শিক্ষা সফরের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়।

সুবিধাসমূহ-

পার্কে রয়েছে নানা সুবিধা যা পর্যটকদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে:

  • টয়লেট ও বিশ্রামাগার
  • পানির ব্যবস্থা
  • ফুড কিওস্ক ও হালকা খাবার দোকান
  • প্রাথমিক চিকিৎসা কর্ণার
  • প্রার্থনার স্থান
  • নিরাপত্তা কর্মী ও সিসিটিভি মনিটরিং

নিরাপত্তা ও নির্দেশনা-

পার্কে ঘুরে বেড়ানোর সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:

  • প্রাণীকে বিরক্ত বা খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন
  • পার্ক পরিষ্কার রাখুন, নির্ধারিত ঝুড়িতে ময়লা ফেলুন
  • শিশুদের নজরে রাখুন
  • রাইড ও নৌকা ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
  • পার্ক কর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান-

খুলনা শহরের কাছাকাছি আরও কিছু আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে যা আপনি ঘুরে দেখতে পারেন:

  • সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বন
  • রূপসা নদীর পাড়
  • খান জাহান আলীর মাজার
  • বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ
  • খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর

যাওয়ার সেরা সময়-

জাহানারা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক পরিদর্শনের সবচেয়ে ভালো সময় হলো নভেম্বর থেকে মার্চ মাস, যখন আবহাওয়া শীতল ও মনোরম থাকে। এই সময় প্রাণীগুলোও সক্রিয় থাকে এবং পার্কে ঘোরা-ফেরা আরামদায়ক হয়। গ্রীষ্মকাল ও বর্ষাকালে অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির কারণে ভ্রমণ কিছুটা অসুবিধাজনক হতে পারে।

সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে ভিড় কম থাকে, তাই নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে সেই দিনগুলো বেছে নিতে পারেন।

উপসংহার-

জাহানারা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক একটি মনোরম, নিরাপদ ও শিক্ষামূলক পার্ক, যা শিশু ও বড়দের জন্যই সমানভাবে উপযোগী। এটি খুলনা অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিচিত। কম খরচে পরিবার নিয়ে একটি আনন্দময় দিন কাটানোর জন্য এটি আদর্শ স্থান।

যদি আপনি প্রাণীপ্রেমী হন, অথবা আপনার সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে কোথাও ঘুরতে যেতে চান, তবে এই পার্কটি আপনার জন্যই উপযুক্ত।

জাহানারা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা –

এই চিড়িয়াখানায় কী ধরনের প্রাণী দেখা যায়?
এখানে হরিণ, বানর, ময়ূর, কুমির, কচ্ছপসহ বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি পাখি ও প্রাণী রয়েছে।

শিশুদের জন্য কি আলাদা খেলার ব্যবস্থা রয়েছে?
হ্যাঁ, শিশুদের জন্য রাইড, স্লাইড, দোলনা ও ছোট ট্রেনসহ আলাদা বিনোদন এলাকা রয়েছে।

খাবার পাওয়া যায় কি পার্কের ভিতরে?
হ্যাঁ, পার্কে হালকা খাবার ও পানীয় বিক্রির দোকান রয়েছে।

পার্কে কি পিকনিক করা যায়?
অবশ্যই, পার্কে পিকনিক করার জন্য ছায়াযুক্ত জায়গা ও বেঞ্চ রয়েছে।

পার্কে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে কি?
হ্যাঁ, পার্কের বাইরের অংশে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

পার্কে কি ছবি তোলা যায়?
হ্যাঁ, ব্যক্তিগত ছবি তোলা অনুমোদিত। তবে বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফির জন্য অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।

পার্কের খোলা ও বন্ধ হওয়ার সময় কী?
সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকে।

৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য প্রবেশমূল্য কীভাবে নির্ধারিত?
অনেক সময় ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য প্রবেশ ফ্রি বা বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়।

গ্রুপ বা স্কুল ট্যুরের জন্য কি বিশেষ সুবিধা রয়েছে?
হ্যাঁ, স্কুল ও গ্রুপ ট্যুরের জন্য আগে থেকে জানালে বিশেষ সুবিধা ও ছাড় পাওয়া যায়।


Share this article

Leave a Reply

Back To Top