ঘন ঘন ভূমিকম্প কি বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশকে?: একটি গভীর বিশ্লেষণ-
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে, কখনো হালকা, কখনো মাঝারি। সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞ, মিডিয়া—সবাই একই প্রশ্ন করছেন: ঘন ঘন ভূমিকম্প কি বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশকে?
এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ভূ-তাত্ত্বিক গঠন, প্লেট টেকটনিক, পাহাড়ি অঞ্চলের চাপ, ভবন নির্মাণ, জনসংখ্যা ঘনত্ব এবং আমাদের প্রস্তুতির দুর্বলতা—সবই বিশদভাবে বুঝতে হবে। এই ব্লগে আমরা জানবো—আজকের ঘন ঘন ভূমিকম্প আসলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য কী ধরণের সংকেত বহন করছে।
সম্প্রতি ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপট-
(২১ নভেম্বর) শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সারা দেশ। এই ভূমিকম্পে শিশুসহ ১০ জন নিহত ও ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। নরসিংদীতে পাঁচ, ঢাকায় চার ও নারায়ণগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত অনেকেই ভবন থেকে লাফ দেন, কিছু ভবন হেলে পড়ে ও ফাটল ধরে।শুক্রবার বাংলাদেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই, শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় মাত্র ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিনটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনঘন কম্পনকে ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
শুক্রবার বাংলাদেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই, শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় মাত্র ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিনটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ১২ সেকেন্ডে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩.৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নরসিংদীর পলাশে। একই দিন সন্ধ্যায় আরও দুটি ভূমিকম্প হয়- সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে ৩.৭ মাত্রার এবং এক সেকেন্ড পর ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনঘন কম্পনকে ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিদ্যমান সক্ষমতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ডা. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চঝুঁকির আওতাভুক্ত অঞ্চলকে জোন-১, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জোন-২ এবং জোন-৩-এর এলাকা নিম্ন ঝুঁকিপ্রবণ হিসাবে চিহ্নিত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক মানচিত্রে দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৯১টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘আর্থকোয়াকট্র্যাকার ডটকম’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনা বড় ধরনের ভূকম্পনের পূর্বাভাস হতে পারে। তাই জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ভূমিকম্প কি???-
ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে হঠাৎ কম্পন, যা মূলত ভূগর্ভের টেকটনিক প্লেটের সরে যাওয়া, সংঘর্ষ বা ভাঙনের কারণে ঘটে।
এর ফলে মাটি কাঁপে, ভবন দুলে ওঠে এবং ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
ভূমিকম্পের শক্তি রিখটার স্কেলে মাপা হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মাপা হয় মারকেলি স্কেলে।
-টেকটনিক প্লেট নড়াচড়া → চাপ জমে → ভাঙন হয় → ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।
-কয়েক সেকেন্ডেই বড় ধ্বংস ঘটতে পারে।
বাংলাদেশ কোন ভূমিকম্প জোনে অবস্থিত?-
বাংলাদেশ ভূমিকম্পের দিক থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোনে রয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে দেশটি দুটি প্রধান টেকটনিক প্লেটের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে:
-
ইন্ডিয়ান প্লেট
-
ইউরেশিয়ান প্লেট
এই দুই প্লেটের সংঘর্ষের কারণে হিমালয় সৃষ্টি হয়েছে, এবং সেই চাপের প্রভাব বাংলাদেশের ভূ-গঠনে অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি মিয়ানমার–আন্দামান সাবডাকশন জোন, ডাউকি ফল্ট, চিটাগং-টেকনাফ ফল্ট, মেঘালয় প্লেট, সিলেট–ময়মনসিংহ ফল্ট আমাদের ভূমিকম্প ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
বাংলাদেশের অন্তত ৬০% এলাকা উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে, বিশেষ করে—
-
-
ঢাকা
-
চট্টগ্রাম
-
সিলেট
-
ময়মনসিংহ
-
রংপুর
-
কক্সবাজার
-
টাঙ্গাইল
-
নেত্রকোণা
-
বান্দরবান
-

