ইরানে হামলা: ভূমিকা-
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের উপরে এক বিশাল হামলা শুরু হয়েছে, যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে চালিয়েছে। এই আক্রমণের ফলে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা ও মিসাইল আক্রমণ ঘটেছে, এবং ইরান ব্যাপকভাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছিলো অবস্থায় এখনেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। এই বল্গে জানুন বিস্তারত।
(ইরানে খামেনি নিহত: ইরানে খামেনি যুগের অবসান ও ইতিহাস-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য)
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হামলা শুরু-
- ২৮ ফেব্রুয়ারি, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত: ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ইরানের বিভিন্ন শহর, বিশেষ করে তেহরান, ইসফাহান, নাতানজ ও ফোর্ডোতে এয়ারস্ট্রাইক এবং ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালানো হয়।
- ইরান সময় (IRST) অনুযায়ী: হামলা সর্বপ্রথম সকাল ১০:০০–১১:০০ টার মধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
হামলা শুরু হওয়ার পর ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে, যা রাত পর্যন্ত চলেছে ও এখনও অব্যাহত আছে।
কেন মার্কিন ও ইসরায়েল ইরানের উপর হামলা চালালো?-
এই হামলার পেছনে মূল কয়েকটি কারণ:
১) পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা:
মার্কিন ও ইসরায়েল সরকার বছর ধরেই তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি তীব্র নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অনেকাংশে অস্ত্রায়ত্ব স্তরের দিকে এগিয়েছে, যা সংঘাতের মূল প্রেক্ষাপট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন ও ইসরায়েল সরকার কোনো ভাবেই চাচ্ছিল না যে ইরানে পারমাণবিক কোনো শক্তি থাকুক। তারা ইরানকে কোণঠাসা করতে চেয়েছিল। তারা নানাভাবে ইরানকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে দিলেও দমাতে পারেনি ইরানকে। নানা হুমকি দেয়ার পরেও ইরান অকুতোভয়ে তাদের সামরিক শক্তি ও মিসাইল- আধুনিক অস্ত্র নির্মাণে সচল ছিল যার ফলে মার্কিন ও ইসরায়েল তাদের উপর এহেন আক্রমণ চালিয়ে তাদেরকে কোণঠাসা করতে চেয়েছে তবে ইরানও আত্নসমর্পণ না করে পাল্টা মিসাইল চালাচ্ছে কাতার, দুবাই, বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাটির উদ্দেশ্য করে।
২) ক্ষমতার শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য:
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিশানা করা হয়েছে এবং দাবি করা হয় তিনি নিহত হয়েছেন। এই লক্ষ্য ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষতি ঘটানোর উদ্দেশ্য ছিল।
৩) দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনা:
ফিলিস্তিনে মার্কিন ও ইসরায়েলের বর্বরতা ও মুসলিমদের উপর অত্যাচারের বিরোধিতা করে ইরান। তারা মধ্য প্রাচ্যের সৈৗদি আরব, দুবাই, কাতার, বাহরাইন, জর্দান, মিশর এর মত মার্কিন ও ইসরায়েল পরাশক্তির কাছে মাথা নত করেনি। তারা পরাশক্তির বিপক্ষে যেয়ে লড়াই করেছে বারবার। তাদের উপর আঘাত আসলেও এমনকি বিশ্বে তাদের অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করে রাখলেও তারা দমে যায়নি। ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু বছরে ইরানের ব্যাপক প্রভাবশালী ভূ-রাজনীতিক নীতি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত-সমর্থন এবং নিজেদের নিরাপত্তা অপরাধ ভাবার কারণে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানজুড়ে মিসাইল হামলা ও বিমান স্ট্রাইক-
আক্রমণের বিস্তৃতি:
ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনী একসাথে তেহরানসহ অন্তত পাঁচটি বড় শহরকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে। বড় বড় ভবন, সামরিক স্থল ও নেতৃস্থানীয় লক্ষ্যবস্তু এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মিনাব স্কুল হামলা:
হার্মোজগান প্রদেশের মিনাবের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে অন্তত ৮০ জন ছাত্রা নিহত হয়েছেন, যা শিশুদের ওপর একটি পরিণামদায়ক হামলা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া-
পাল্টা হামলা
ইরান তৎক্ষণাতই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে, যাতে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও নিশানা করা হয়।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা-
ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলিতে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সকল সামরিক অবস্থানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হয়েছে।
মানবিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব-
সাধারণ মানুষের ক্ষতিসাধন-
মার্কিন পশ্চিমা শক্তি, ইউরোপ ও ইসরায়েল পরাশক্তি মানবাধিকতার চরম বক্তব্য পেশ করলেও তারাই আসলে যুগের ধারাবাহিকতায় তা লঙ্ঘন করে আসছে। ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক, ইরানের মত দেশে তারা সাধারণ জনগণদের যেভাবে নিধন করেছে তা তাদের আসল বহি:প্রকাশ। ইরানে হামলার ফলে অনেক সাধারণ মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শহুরে অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনগণের জীবনের নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে। তাদের এহেন আচরণ আল্লাহ তায়ালা কুরআনেই ব্যক্ত করেছেন-
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَـٰكِن لَّا يَشْعُرُونَ
“আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ (অশান্তি ও অনাচার) সৃষ্টি করো না’, তখন তারা বলে, ‘আমরা তো শুধু সংশোধনকারী।’
জেনে রাখো, তারাই আসলে ফাসাদ সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না।”
— (সূরা আল-বাকারা: ১১–১২)
জাতিসংঘ-এর প্রতিক্রিয়া-
জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান হামলাটিকে নিন্দা জানিয়ে পরিস্থিতির শিথিলকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈশ্বিক মন্তব্য-
বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর দেশ এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করছে – কেউ হামলার সমালোচনা করছে আবার কেউ বলছে বৃহত্তর নিরাপত্তা লাভের উদ্দেশ্য ছিল। তবে এটা বলা চলে পশ্চিমা, ইউরোপ ও ইসরায়েল শক্তি ইরানের মত সাহসী দেশকে উৎখাত করতে চায় তারা চায় মধ্য প্রাচ্য সৈৗদি আরব, দুবাই, কাতার, বাহরাইন, জর্দান, মিশরের মত ইরান থাকুক তাদের পাচাটা দাস হয়ে যা অসম্ভব। ইরানের উপর বারবার আক্রমণ হলেও তারা দমে যাবার নয় কারণ তাদের আছে অদম্য সাহসিকতা, আছে ঈমানী চেতনা ও মূল্যবোধ।
প্রশ্ন ও উত্তর-
প্রশ্ন: ইরানে হামলা কবে থেকে শুরু হয়েছে?
উত্তর: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল থেকে মার্কিন ও ইসরায়েল যৌথভাবে এয়ারস্ট্রাইক ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়।
প্রশ্ন: এই হামলার কারণ কী?
উত্তর: মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিরাপত্তা হুমকি ও নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার উদ্দেশ্য এই হামলা চালানো হয়েছে বলে উভয় পক্ষ দাবী করেছে।
প্রশ্ন: ইরানও কি পাল্টা হামলা করেছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও কিছু অঞ্চলে আক্রমণ করেছে।
প্রশ্ন: নিহত ও আহতের সংখ্যা কত?
উত্তর: সরকারি পরিসংখ্যান পরিবর্তনশীল এবং স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও বহু শহরে নিহত ও আহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষত মিনাবের স্কুল হামলাতে প্রাকৃতিক সংখ্যক শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন: এই সংঘাত কি শেষ হয়েছে?
উত্তর: এই সময় পর্যন্ত সংঘাত চলমান এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান পরিস্থিতির দ্রুত নিরসন ও শান্তির জন্য আহ্বান করছে।














