ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশের রাজনীতির এক ধ্রুবতারা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ চিরন্তন বিশ্রামে শায়িত হয়েছেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে তিনি ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, যা শোনার সঙ্গে সাথেই সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি ভোর ৬টায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
আজ বুধবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয় তাঁর নামাজে জানাজা। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার মাঠে আয়োজিত ওই শেষ নামাজে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় এসেছেন—অনেকেই কান্না আর শোক নিয়েই উপস্থিত ছিলেন।
জনতার অকৃত্রিম ভালোবাসায় সয়লাব ছিল গোটা সংসদ ভবনের সামনের এলাকা। সাধারণ মানুষ বহুকাল ধরে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, নীরবে কানের কোণে মিষ্টি স্মৃতি আর চোখে অশ্রু।
সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং আজ দেশের বিভিন্ন অফিস, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন: শেষ বিদায়
জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে, যেখানে তিনি তাঁর স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে শায়িত হয়েছেন। নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ছিল কড়া—সহযোগিতায় ছিলেন শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী।
দাফনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রিত প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনীতিক, স্বদেশি ও প্রবাসী সব শ্রেণির মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর ও পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
বিশ্বব্যাপী শোক বার্তা ও শ্রদ্ধা
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ ও বিদেশ থেকে অসংখ্য শোকবার্তা এসেছে।
-
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
- চীনের রাষ্ট্রদূতও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ লিখেছেন, “আপনি আমাদের হৃদয়ের রাজনীতি”, “দেশ আপনাকে ভুলবে না।” অনেকের চোখে আজও ছিল অশ্রু আর ব্যথা—এক নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা।
একটি ঘর কাঁপানো রাজনৈতিক জীবন
খালেদা জিয়া শুধু একজন ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি সময়ের রাজনীতির প্রতীক, সংগ্রাম ও ত্যাগের নাম। সাধারণ গৃহিণী থেকে হয়ে দাঁড়ানো এই নেত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় বিস্ময়কর উপস্থিতি রেখেছেন, যেটি আজ লাখো মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।
#বেগম_খালেদা_জিয়া

