স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রীকে পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা বিশ্বব্যবস্থায় ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। শক্তির অপব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অপসারণের চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে এবং বিশ্বশান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।
এই ঘটনার পর বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের স্ত্রীকে অভিযানের আওতায় আনা নারীর নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার চরম অবমাননা।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে সামরিক বা গোপন অভিযান চালানো উপনিবেশবাদী মানসিকতারই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করছে।
ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচারকামী মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। তারা অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের মুক্তি এবং ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে—শক্তির রাজনীতি নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতেই বিশ্ব টিকে থাকতে পারে। অন্যথায় এমন আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বিশ্বকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে।

