Flash Story
প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট
 প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট- নাভিশ্বাস ঢাকার জনজীবন
স্বাধীন দেশে স/ন্ত্রা/সী হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রীকে অপহরণ
Mustafizur rahman
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত—বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভ ও নিন্দা
2026-01-04_013030
নতুন বাংলাদেশে আগের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণ
BNP-Chairperson-Khaleda-Zia
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রা: দেশ শোকসাগরে
বলিষ্ঠ কণ্ঠধারী ওসমান হাদি আর নেই
বলিষ্ঠ কণ্ঠধারী ওসমান হাদি আর নেই: জুলাই যোদ্ধা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র—এক কণ্ঠযোদ্ধার বিদায়
সিডনীিতে বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে ইহুদীদের উপর হামলা
সিডনির বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে ইহুদিদের উপর হামলা: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ – বিস্তারিত ঘটনা ও বিশ্লেষণ
কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন
কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন: ভোরের অগ্নিকাণ্ড, ১১ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে
ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা
ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা: নেপথ্যে কী? এই হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কী ছিল মূল উদ্দেশ্য?
কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন
Share this article

কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন: ভূমিকা-

কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আতঙ্কজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ভোরবেলার নীরব পরিবেশে হঠাৎ করে লাগা এই আগুন মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঢাকা সংলগ্ন কেরাণীগঞ্জের আগানগর এলাকায় অবস্থিত একটি ১২ তলা ভবনের নিচে থাকা ঝুট গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে টানা ১১ ঘণ্টা কাজ করতে হয়েছে। আগুনের তীব্রতা, ঝুটের দাহ্যতা এবং ভবনের কাঠামোগত জটিলতা—সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি।

কীভাবে শুরু হয় আগানগরের ঝুট গোডাউনের আগুন-

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে কেরানীগঞ্জের আগানগর জাবালে নূর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। জাবালে নূর টাওয়ার ভবনের নিচ তলায় কাপড়ের গোডাউন থেকে মূলত আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনজুড়ে। ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

আগুনের খবর পেয়ে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন লাগা ১০ তলা ভবনের বেজমেন্ট থেকে ২ তলা পর্যন্ত কাপড়ের দোকান ও ছোট ছোট ঝুট গোডাউন        এবং তৃতীয় তলা থেকে ১০ তলা পর্যন্ত আবাসিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বেইজমেন্টে প্রবেশপথ মাত্র দুইটি।

বেসমেন্টে জুটের দোকান হওয়ায় এবং দোকানগুলো তালা মারা থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। বেশিরভাগ দোকানের শাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙ্গে ভেঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কাজ করতে হয়েছে এতে করে তাদের আগুন নেভাতে সময় বেশি লেগেছে। সকাল থেকে ৪৫ জনকে বিভিন্ন সিঁড়ি ব্যবহার করে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোন হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইউএনও উমর ফারুক জানান, ভবনগুলোর অনুমোদন আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিল্ডিং নির্মাণে কোন র্কোড মানা হয়নি। গ্যারেজের জায়গায় গোডাউন করা হয়েছে- আইন মানা হয়নি তা প্রমাণিত। তদন্ত কমিটির সুপারিশে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে।

এদিকে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এসিল্যান্ডকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ-

আগুন লাগার সূত্রপাত কিভাবে তা এখনও সঠিকভাবে জানা জায়নি তবে নিম্নোক্ত কারণে হতে পারে বলে অনুমার করা যায়-

-বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট,

-ঝুটের মধ্যে জমে থাকা দাহ্য বর্জ্য,

-অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব,

-অসতর্ক মানবিক ত্রুটি  

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেমন হতে পারে-

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—

  • কোটি কোটি টাকার ঝুট পুড়ে ছাই
  • গোডাউনের অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি
  • ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসান

যদিও এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব হয়নি, তবে ক্ষতির পরিমাণ যে বিশাল—তা স্পষ্ট।

 কেন বহু জায়গায় বার বার আগুন লাগছে-

বাংলাদেশে গোডাউনে আগুন নতুন নয়। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন এই সমস্যাগুলোরই ভয়াবহ উদাহরণ-

  • অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা
  • অনুমোদনহীন গোডাউন
  • নিয়মিত তদারকির অভাব
  • আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের নিচে ঝুট সংরক্ষণ

ভবিষ্যৎতে আগুন প্রতিরোধে করণীয়-

এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড এড়াতে প্রয়োজন—

  • ঝুট গোডাউন আলাদা শিল্প এলাকায় স্থানান্তর
  • আধুনিক ফায়ার সেফটি সিস্টেম স্থাপন
  • নিয়মিত ফায়ার ড্রিল
  • শ্রমিক ও মালিকদের প্রশিক্ষণ

এই উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা জরুরি।

শুধু প্রশাসন নয়, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝেও সচেতনতা জরুরি।
কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন আমাদের শেখায়—একটু অবহেলা কত বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

উপসংহার-

কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ভোরবেলায় লাগা এই আগুন ১১ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এলেও এর ভয়াবহতা সহজে ভুলে যাওয়ার মতো নয়। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

প্রশ্নোত্তর-

১.কেরাণীগঞ্জ আগানগর ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন কখন লাগে?

ভোরবেলা আগুনের সূত্রপাত হয়, যখন বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিল।

২. আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কত সময় লাগে?

প্রায় ১১ ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

৩. আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ কী?

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ও অগ্নিনিরাপত্তার অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে।

৪. এতে কি প্রাণহানি ঘটেছে?

এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তিদায়ক।

৫. ভবিষ্যতে কীভাবে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব?

ঝুট গোডাউন আলাদা এলাকায় স্থানান্তর, কঠোর আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে।


Share this article

Leave a Reply

Back To Top